জেলা 

মোদি মমতাকে একযোগে আক্রমণ রাহুলের! উজ্জীবিত কংগ্রেস!

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : পশ্চিমবাংলা বিধানসভার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী প্রচারে আজ ১৪ই এপ্রিল পশ্চিমবাংলার রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং মালদহতে সভা করছেন কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। প্রথম সভা ছিল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে এই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রায়গঞ্জের ভূমিপুত্র প্রাক্তন ও প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সী স্মরণ করেন রাহুল গান্ধী এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাহুল এদিন বলেন প্রিয় রঞ্জন জি বেঁচে থাকলে আজ পশ্চিমবাংলায় কংগ্রেসের সরকার আপনারা দেখতে পেতেন। তিনি কংগ্রেসের সম্পদ ছিলেন কংগ্রেসের স্বার্থে তিনি অনেক কাজ করে গেছেন অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

Advertisment:

Advertisement

এরপরেই নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরাসরি মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন রাহুল গান্ধী। তিনি এদিন বলেন এই রাজ্যে বিজেপিকে আসার পথ করে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরএসএস এবং বিজেপি এই রাজ্যে ছাড়পত্র দিয়েছেন। মমতাকে আক্রমণ করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছেন এই রাজ্যে শিল্প কারখানা সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে এখন আবার ভাতা দেয়া শুরু করেছে। ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে কি?

রাহুল বলেন, “বিজেপি হিংসা ছড়ায়। ওদের প্রধানমন্ত্রী ‘কম্প্রোমাইজ়ড’। ওদের নিয়ে তো কথাই বলব না। অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জন্য পথ খুলে দিচ্ছে তৃণমূল। কারণ, তৃণমূল নিজের কাজ করলে, আপনাদের আয়ের ব্যবস্থা করলে, হিংসা না ছড়ালে এখানে বিজেপি-কে দেখাই যেত না।”

তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আগে শিল্পের কেন্দ্র ছিল। বামপন্থীরা এবং তার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের পুরো শিল্পকে নষ্ট করে দিয়েছেন। আমরা যদি হিংসার কথা বলি, মহিলাদের উপর অত্যাচারের কথা বলি, তা হলে আরজি করে ধর্ষণ এবং খুনের কথাও বলতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তৃণমূলের গুন্ডারা যা করতে চায়, তা-ই করতে পারে। এখানকার কংগ্রেস নেতা তপন কুণ্ডুকে খুন করেছে। বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়েই হিংসা ছড়ায়। কংগ্রেস হিংসার বিরুদ্ধে। আমরা হিংসা ছড়াই না। আমরা জাতপাতের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে কখনও অশান্তি পাকাই না।”

কংগ্রেস নেতা বলেন, “২০২১ সালে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ৫ লক্ষ লোকের রোজগারের ব্যবস্থা করবে। কত জনের রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে? কত সংস্থা বন্ধ হয়েছে? কত কারখানা বন্ধ হয়েছে? এখন ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৫ লক্ষ যুবকের রোজগারের ব্যবস্থা করবেন। আর ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার আবেদন করছে।”

তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজের সমালোচনা করে রাহুল বলেন, “নরেন্দ্র মোদী দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তৃণমূল কংগ্রেসও দুর্নীতির দৌঁড়ে পিছিয়ে নেই। সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ১৯০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। রোজ ভ্যালি চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে ৩১ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ৬৬০০ কোটি টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। কয়লাপাচার দুর্নীতি, বেআইনি খাদান চলে। ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ তোলা হয় এখানে। এতে পশ্চিমবঙ্গবাসীর কোনও লাভ হয় না। এতে শুধু তৃণমূলের সিন্ডিকেট পয়সা পেতে থাকে।”

রায়গঞ্জের সভা থেকে তৃণমূলকেও নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে সুযোগ কে দিচ্ছে? তৃণমূল কংগ্রস সুযোগ দিচ্ছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে টাকা দেয় না। পশ্চিমবঙ্গকে ২ লক্ষ কোটি দেয়নি বিজেপি। ১০০ দিনের কাজের টাকা কেটে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে এ রাজ্যের জন্য কোনও প্রকল্প দেয়নি। তার পরে এসআইআর-এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ করছে। কিন্তু তৃণমূলও নিজের কাজে ব্যস্ত। তারাও এ রাজ্যের জন্য কাজ করছে না।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ